উচ্চকক্ষের ১০০ আসন: বিএনপি ৫০, জামায়াত পেতে পারে ৩২
উচ্চকক্ষের ১০০ আসন: বিএনপি ৫০, জামায়াত পেতে পারে ৩২
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
Manual6 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে তিনটি স্থগিত (একটির ভোট গ্রহণ ও অন্য দুটির ফল স্থগিত) থাকায় ২৯৭টি আসনের ফল প্রকাশ হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুসারে উচ্চকক্ষে ১০০ আসনের মধ্যে ৯৮টি আসনের ধারণা পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৫০টি, জামায়াতে ইসলামী ৩২টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩টি করে আসন পেতে পারে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, জাতীয় পাটি (জাপা) ও খেলাফত মজলিস ১টি করে এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা চাইলে নিজেদের মধ্যে জোটবদ্ধ হয়ে উচ্চকক্ষে ৬টি আসন পেতে পারেন। তবে এই উচ্চকক্ষ সংবিধান সংস্কারের পর বাস্তবায়ন হবে অর্থাৎ আসন্ন সংসদের ১৮০ দিন শেষে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন হতে পারে।
Manual6 Ad Code
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদের প্রথম ১৮০ দিন হবে একত্রে দ্বৈত চরিত্রের। একটি আগের মতো সংসদ হিসেবে কাজ করবে, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে পরিষদের বিলুপ্তি ঘটবে। এর পরেই সংসদকে দেখা যাবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। একটি হলো নিম্নকক্ষ, যাকে আমরা জাতীয় সংসদ হিসেবে দেখে আসছি। আরেকটি উচ্চকক্ষ, যা অতিরিক্ত ১০০ সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। ১৮০ দিন শেষে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন হবে। জাতীয় নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৩০০ জনের সঙ্গে সংবিধান অনুসারে সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন নারী সদস্য যুক্ত হয়ে নিম্নকক্ষ গঠন হবে। এরপর সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন হবে।
সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দল যে পরিমাণ ভোট পাবে, সেই আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষে সদস্য মনোনীত হবে। অর্থাৎ কোনো দল যদি ৪০ শতাংশ ভোট পায়, তাহলে তারা ৪০টি আসন পাবে। আবার কেউ ১ শতাংশ ভোট পেলে উচ্চকক্ষে তাদের ১ জন প্রতিনিধি থাকবে। বিষয়টি গাণিতিক নিয়মে দশমিক ৫১ সংখ্যাকে ঊর্ধ্ব পরিপূরক এবং দশমিক ৪৯ কে নিম্ন পরিপূরক সংখ্যা হিসেবে নির্ণয় করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সংসদের তিনটি আসন স্থগিত থাকায় প্রকাশিত ফলের পরিসংখ্যান অনুসারে উচ্চকক্ষে আপাতত ৯৮টি আসনের ধারণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপি মোট ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পাওয়ায় উচ্চকক্ষে ৫০টি এবং জামায়াতে ইসলামী ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পাওয়ায় ৩২টি আসন পেতে পারে। একইভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পাওয়ায় ৩টি করে আসন পেতে পারে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পাওয়ায় ২টি, জাতীয় পাটি (জাপা) দশমিক ৮৯ এবং খেলাফত মজলিস দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পাওয়ায় ১টি করে আসন পেতে পারে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা ভোট পেয়েছেন ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তারা চাইলে নিজেরা জোটবদ্ধ হয়ে উচ্চকক্ষে ৬টি আসন পেতে পারেন। স্থগিত থাকা তিনটি আসনের ফল প্রকাশের পর উচ্চকক্ষে কোনো কোনো দলের একটি বা দুটি আসন বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে উচ্চকক্ষ বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সংসদে উচ্চকক্ষ চালু করার প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা ও বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার তা লিপিবদ্ধ আছে। তবে উচ্চকক্ষের রূপরেখা ঠিক করতে সময় লাগবে। তাদের আশা, চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের শুরুতেই সংসদে উচ্চকক্ষের কার্যক্রম শুরু হবে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতাহারের উচ্চকক্ষের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে চাই।
Manual2 Ad Code
জুলাই সনদে সংখ্যানুপাতিক হারে (ভোটের শতাংশ অনুসারে আসন বণ্টন) উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হবে উল্লেখ আছে। কিন্তু এই বিষয়ে বিএনপি আপত্তি জানিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে। দলটির দাবি, সংসদের নিম্নকক্ষের প্রাপ্ত আসন অনুসারে আসন বণ্টন হবে। কোন পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ হবে তা নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন নীতিনির্ধারকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও সংসদে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। আলোচনার পরই উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।’
Manual7 Ad Code
পরাজিত প্রার্থীরাও কি উচ্চকক্ষের সদস্য হতে পারবেন?
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে এ বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলা হলেও গত শুক্রবার এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে এবারের নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের উচ্চকক্ষের সদস্য পদে মনোনয়ন দিতে পারবে। এটি শুধু ত্রয়োদশ সংসদের জন্যই প্রযোজ্য হবে। পরবর্তী সময়ে এ সুযোগ থাকবে না। কারণ, এবারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে বিদ্যমান সংবিধান সংস্কারের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়েছে। পরের অর্থাৎ চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন হবে সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী। সেখানে সংবিধান সংশোধন করা হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংসদের উভয় কক্ষের (নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ) প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে একজন নেতা বা কর্মীকে সংসদের উভয় কক্ষের সদস্য পদে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ থাকবে না বা দেবেও না। বিদ্যমান সংবিধানে সংসদের উচ্চকক্ষের কোনো বিধান নেই। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হবে কি না সেটিও নিশ্চিত ছিল না। সে কারণে উচ্চকক্ষের সদস্য মনোনয়নের যে নির্দেশনা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, তা এবারের জন্য প্রযোজ্য হবে না। এ কারণেই রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে এবারের সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের সংসদের উচ্চকক্ষে সদস্যপদে মনোনয়ন দিতে পারবে।