প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বাইকের চাকা ঘুরলেই কর

editor
প্রকাশিত মে ১২, ২০২৬, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
বাইকের চাকা ঘুরলেই কর

Manual2 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়করের আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিসিভেদে মোটরসাইকেলে বছরে দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা এবং এলাকাভেদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা কর আরোপের প্রস্তাব থাকছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে শুধু সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, জিপ, বাস, ট্রাক ও পিকআপের মতো যানবাহনের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর নেওয়া হয়।

Manual6 Ad Code

তবে এবার প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। গতকাল বাজেটসংশ্লিষ্ট এক সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

Manual2 Ad Code

সূত্র জানায়, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলে কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হবে না। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে দুই হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে।

Manual8 Ad Code

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০। সংস্থাটির কাছে সিসিভিত্তিক নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে ১১০ সিসি বা এর নিচের মোটরসাইকেলের সংখ্যা ১০ লাখ ধরে হিসাব করলে করযোগ্য মোটরসাইকেলের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩৮ লাখ। গড়ে প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে চার হাজার টাকা করে কর আদায় করা গেলে সরকারের কোষাগারে বছরে প্রায় এক হাজার ৫২০ কোটি টাকা যোগ হতে পারে।

বর্তমানে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এককালীন নিবন্ধন ফি এবং দুই বছর পর পর রোড ট্যাক্স দিতে হয়। ৫০ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ৯ হাজার ২৯১ টাকা। এরপর প্রতি দুই বছর পর পর এক হাজার ১৫০ টাকা রোড ট্যাক্স দিতে হয়। ১২৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ১১ হাজার ৭৬৪ টাকা এবং প্রতি দুই বছর পর পর দুই হাজার ৩০০ টাকা রোড ট্যাক্স দিতে হয়।

তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর দুই হাজার ৫০০ টাকা।
সিসিভেদে প্রাইভেট কার ও জিপে এই কর ২৫ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত। দোতলা বাস, এসি মিনিবাস ও কোস্টারের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা, ৫২ আসনের বেশি বাসে ২৫ হাজার টাকা এবং এর কম আসনের বাসে ২০ হাজার টাকা কর দিতে হয়। এসি বাসে ৫০ হাজার টাকা এবং নন-এসি মিনিবাস বা কোস্টারের ক্ষেত্রে ১২ হাজার ৫০০ টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারিত আছে।

এ ছাড়া পাঁচ টনের বেশি ধারণক্ষমতার ট্রাক, লরি ও ট্যাংকলরিতে ৩০ হাজার টাকা, দেড় থেকে পাঁচ টন ওজনের যানবাহনে ১৫ হাজার টাকা এবং দেড় টনের কম ওজনের যানবাহনে সাড়ে সাত হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। পিকআপ ভ্যান, হিউম্যান হলার ও থ্রি-হুইলারের ক্ষেত্রেও সাড়ে সাত হাজার টাকা কর দিতে হয়। বিআরটিএ ফিটনেস নবায়নের সময় এসব কর আদায় করে থাকে।

বাংলাদেশে গত এক দশকে মোটরসাইকেল শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে। হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি, বাজাজ ও টিভিএসের বিভিন্ন মডেল দেশে সংযোজন করা হচ্ছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হলে মোটরসাইকেলের বিক্রি ও উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে নতুন বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হোন্ডার চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মো. আশেকুর রহমান বলেন, ‘১১০ সিসির মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের মাসিক আয় সাধারণত ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে। ১২৫ সিসির ক্ষেত্রে তা গড়ে ৪০ হাজার টাকা আর ১৫০ সিসির বেশি হলে আয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে। তবে যাঁরা শখের জন্য উচ্চমূল্যের বাইক কেনেন, তাঁদের বিষয় আলাদা। ছয় লাখ টাকার মোটরসাইকেল যিনি কিনছেন, তাঁর জন্য প্রতিবছরের কর বড় বিষয় নয়। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর এর প্রভাব পড়বে। এতে সামগ্রিক বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

 

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও আসছে করের আওতায়

মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী অটোরিকশার ক্ষেত্রে বছরে পাঁচ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় দুই হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে এক হাজার টাকা কর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঠিক সংখ্যা নেই। তবে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, দেশে অন্তত ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই চলছে ১২ থেকে ১৫ লাখ।

এসব যানবাহনকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে গত বছর ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করে সরকার। ওই খসড়ায় নিবন্ধন সনদ, হালনাগাদ ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেন নেওয়ার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের ক্ষেত্রে এনবিআর নির্ধারিত হারে শুল্ক ও কর আদায়ের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, যানবাহনের মালিকদের প্রতিবছর ফিটনেস নবায়নের সময় নির্ধারিত হারে অগ্রিম আয়কর দিতে হয়, যা পরে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। একইভাবে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিকরাও ভবিষ্যতে রিটার্নের সঙ্গে এ কর সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন।

Manual6 Ad Code

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘অগ্রিম কর পরিশোধ একটা বোঝা তৈরি করে। তবে যার মোটরসাইকেল কেনার সামর্থ্য আছে, তার কিছু কর দেওয়ারও সক্ষমতা থাকার কথা। মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন বা প্রতিবছর ফিটনেস টেস্টের সময় কর আদায় হবে। রাজস্ব আদায়ের প্রেক্ষাপটে এটা হয়তো বাস্তবায়ন সম্ভব। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে বেশির ভাগই অনিবন্ধিত। এদের করজালে আনবেন কিভাবে? রাজস্ব আদায়ের বিষয়টা অনেকটাই হ-য-ব-র-ল।’

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code