আওয়ামীলীগকে নির্বাচনে আসতে বলা তো জুলুম : জামায়াত আমির
আওয়ামীলীগকে নির্বাচনে আসতে বলা তো জুলুম : জামায়াত আমির
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১০, ২০২৪, ০৬:১১ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা আসার পর ২০১৪-২০২৪ পর্যন্ত তিনটা নির্বাচন হয়েছে। এ সময়ে আদৌ কি নির্বাচন হয়েছে? তারা কি আদৌ নির্বাচন চেয়েছে? তারা তো নির্বাচন চায়নি, চেয়েছে ক্ষমতা। ক্ষমতায় থাকার জন্যই তারা যা কিছু করার দরকার তাই করেছে। এখন যারা নির্বাচনই চায়নি সেই আওয়ামী লীগের ওপরে চাপায় দিলে সেটা তো জুলুম হবে।
Manual3 Ad Code
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিক জামায়াতে ইসলামী তা চায় কি না— এমন এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। শফিকুর রহমানের এমন জবাবে পুরো অনুষ্ঠান কক্ষে হাস্যরসের রোল পড়ে যায়।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে ‘রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে ১০ দফা সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বলেন আমিরে জামায়াত।
Manual3 Ad Code
গত ১৫ বছরে পতিত শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ যে স্বৈরাচারী আচরণ করেছে, গণহত্যা করেছে… শেখ হাসিনাসহ অনেকে পালিয়েছেন। তাদের ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রস্তাব করবেন কি না জানতে চাইলে জামায়াত আমির বলেন, অনেক প্রস্তাবই করা হচ্ছে। তবে শুধু উনি নন, ওনার দোসর যারা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন, অনেকে বলেন পালিয়ে গেছেন, তাদের সকলকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আমরা এটা স্পষ্ট করেই বলেছি। তাদের ক্ষেত্রেও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।
রাষ্ট্র সংস্কারের কথাবার্তা হচ্ছে। কোনো কোনো দল নির্বাচনকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলছে সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া এক সাথে চলবে। এই সংস্কার বা নির্বাচন হওয়ার সময়টা আসলে কতটুকু?
উত্তরে জামায়াত আমির বলেন, ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য আসতেই পারে। কারণ দল ও মতও তো ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু একটা বিষয়ে তো একমত সবাই যে, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হবে। আগে নির্বাচন নাকি আগে সংস্কার। আসলে আগে নির্বাচন হয়ে গেলে সংস্কারের বিষয়টি থাকে না। কারণ সংস্কার চাওয়াই হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য। আমরা সেজন্য সংস্কার ও নির্বাচনী রোডম্যাপ জানতে চেয়েছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে। তারা জানিয়েছেন সেটা তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে করবেন। আমরা বলেছি সেটা যেন নাতিদীর্ঘ না হয়। অতি সংক্ষিপ্ত কিংবা অতি লম্বা সময় না হয়।
পিআর পদ্ধতির নির্বাচন প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল। অনেকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। তাদের জন্য তো কোনো কোটা নির্ধারণ করা নেই। যারা রাজনৈতিক দল করেন তাদের জন্য ৫১ বা ৪৯। এর ব্যবধানে কেউ হয়ে যায় অধিকাংশ সিটের মালিক। কেউ হয়ে যান ৩০ সিটের মালিক। এতে করে জনগণের জনমতের প্রতিনিধিত্বটা সঠিক হয় না। আবার লেজিসলেটিভ বডিতে যারা থাকবেন তাদের ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতি বিশ্লেষণের যোগ্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এমন এমন ব্যক্তি এসেছেন যাদের সংবিধানের মৌলিক বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিব্রত হতেন। সংগত তারা দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করবে না। সেজন্য যোগ্য ব্যক্তিরা আসুক। একটা বর্ণাঢ্য সংসদ গড়তে হলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। জনগণ ভোট দেবে দলকে, দলের প্রতীককে। ব্যক্তি কাউকে নয়। এই ভোটে প্রত্যেকটি দল প্যানেল সাপোর্ট করবে। ভোটে তারাই নির্বাচিত হবে প্রপর্শন অনুযায়ী। এতে কম যোগ্য লোকও নির্বাচিত হবে না আবার বেশি যোগ্য কেউ বাদ পড়বে না।
৭২ এর সংবিধান সংশোধন চান নাকি এটাই চালানোর পক্ষে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৭২-এর সংবিধান রচিত হয়েছিল ভারতে বসে। আমরা সেটা বাংলাদেশে বসে লিখতে পারতাম। শুধু ভারত বা অন্য কোনো দেশের এক্সপার্টকে আনতে পারতাম। আমাদের সংবিধান জন্মভূমি হিসেবে বাংলাদেশকে পায়নি। যদিও এটা স্বাধীন সংসদে পাস হয়েছে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের আমলেই অনেকবার সংশোধন হয়েছে। বহু দলীয় ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে ১৯৭০-এর নির্বাচন হয়েছে পাকিস্তান আমলে। বহুদলীয় নির্বাচন ছিল বলেই আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। এরপর কিন্তু ২৩ বছর নির্বাচন হয়নি। শেখ মুজিবুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে ৭ মিনিট বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগসহ সকল দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল কায়েম করেন। এই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পুনর্জন্ম কিন্তু জিয়াউর রহমানের হাতে হয়েছিল। এরকম সকল দলই পরবর্তীতে বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিল।
‘আমরা চাই আমাদের সংবিধান যেন মতলবি সংবিধান না হয়, বিশেষ পক্ষ বা গোষ্ঠীর না হয়, বিশেষ গোষ্ঠীকে নিরাপত্তা দেওয়ার সংবিধান না হয়। আপামর জনসাধারণের জন্য হয়। সকল ধর্ম, বর্ণ, দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, সকল মতবাদকে সম্মান দিতে পারে। জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। সেটা নতুন সংবিধান হবে না কি, সংশোধন করতে হবে তা বহু আলোচনার বিষয়।’
Manual5 Ad Code
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন— নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ সাবেক এমপি, এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।