যুক্তরাষ্ট্রে যুবকের গুলিতে বাবা-চাচা-ভাইসহ নিহত ৬, পুলিশ হেফাজতে যুবক
যুক্তরাষ্ট্রে যুবকের গুলিতে বাবা-চাচা-ভাইসহ নিহত ৬, পুলিশ হেফাজতে যুবক
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
নিউজ ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের ক্লে কাউন্টিতে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক শিশু রয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর দারিকা মুর (২৪) নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
Manual7 Ad Code
গতকাল শনিবার (৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ক্লে কাউন্টির শেরিফ এডি স্কট জানান, মুর তার পরিবারের একাধিক সদস্যের পাশাপাশি স্থানীয় এক চার্চের যাজককেও হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার অভিযোগ আরও কঠোর করে ‘ক্যাপিটাল মার্ডার’-এ উন্নীত করা হতে পারে। মুর মানসিকভাবে সক্ষম বলে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
Manual2 Ad Code
মিসিসিপির ১৬তম সার্কিট কোর্টের জেলা অ্যাটর্নি স্কট কোলম বলেন, ‘এটা ভয়াবহ। এর চেয়ে খারাপ ঘটনা কল্পনা করা কঠিন।’
শেরিফ স্কট জানান, তদন্তকারীদের ধারণা অনুযায়ী- শুক্রবার সন্ধ্যায় মুর প্রথমে তার বাবা, ভাই ও চাচাকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর তিনি একটি ট্রাক নিয়ে অন্য একটি স্থানে যান, যেখানে সাত বছর বয়সী এক আত্মীয় শিশুকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন এবং পরে তাকেও গুলি করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ।
শেরিফ বলেন, তার ৩০ বছরের চাকরি জীবনে এটি ছিল সবচেয়ে কঠিন মামলাগুলোর একটি।
Manual6 Ad Code
কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম গুলির ঘটনা ঘটে সন্ধ্যা সাতটার কিছু আগে ডেভিড হিল রোডের একটি বাড়িতে। সেখানে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন- গ্লেন মুর (৬৭), উইলি গুইন্স (৫৫) এবং কুইন্টন মুর (৩৩)।
এরপর জরুরি সেবায় ফোন পেয়ে পুলিশ ব্লেক রোডের আরেকটি বাড়িতে যায়, যেখানে মুর জোরপূর্বক ঢুকে অস্ত্র হাতে যৌন অপরাধের চেষ্টা করেছিলেন বলে জানানো হয়। সেখানে সাত বছর বয়সী শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারীদের মতে, পরে মুর তার নিহত ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি ফোর্ড এফ-১৫০ ট্রাক চুরি করে সাইলোয়াম-গ্রিফিথ রোডের একটি বাড়িতে যান। সেখানে পুলিশ ট্রাকটি লুকানো অবস্থায় পায় এবং ব্যারি ব্র্যাডলি ও স্যামুয়েল ব্র্যাডলির মরদেহ উদ্ধার করে। তাদের দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেরিফ স্কট জানান, নিহতদের একজন স্থানীয় একটি গির্জার যাজক ছিলেন।
তবে ব্র্যাডলি পরিবারের সঙ্গে মুরের কোনো পূর্ব সম্পর্ক ছিল কি না- তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাত প্রায় ১২টার দিকে পাইনের গ্রোভ রোড ও জো মায়ার্স রোডের সংযোগস্থল থেকে মুরকে আটক করা হয়। সে সময় তিনি যে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, সেটিও সাইলোয়াম-গ্রিফিথ রোডের বাড়ি থেকে নেওয়া বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
শেরিফ স্কট বলেন, ‘এই ঘটনা আমাদের পুরো কমিউনিটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি বুঝতে পারছি না, সাত বছর বয়সী একটি শিশুকে হত্যা করার মতো কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’
Manual3 Ad Code
মরদেহগুলোর ময়নাতদন্দের জন্য মিসিসিপি ক্রাইম ল্যাবের পাঠানো হবে। অভিযুক্ত দারিকা মুর সোমবার আদালতে প্রথমবার হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। জেলা অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।