নিহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে চায় সরকার
নিহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে চায় সরকার
editor
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ও আহতদের জন্য সরকার পৃথক ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। আহতদের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা এবং নিহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই প্রস্তাব চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রস্তাবনায় ১৮ বছরের নিচের নিহত শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক কোটি টাকা এবং প্রাপ্তবয়স্ক নিহতদের জন্য ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
Manual3 Ad Code
আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ তাদের আঘাতের মাত্রা ও বয়স অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। মধ্যম মাত্রার আহতদের জন্য শিশুদের ৩০ লাখ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ২০ লাখ টাকার প্রস্তাব রয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম বা স্বল্পমেয়াদি আহতদের ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য ১৫ লাখ ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি বা গুরুতর অগ্নিদগ্ধদের জন্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্যাকেজও রাখা হয়েছে। ১৫ বছর চিকিৎসার প্রয়োজন এমন গুরুতর আহতদের জন্য ১৫ লাখ টাকার পুনর্বাসন প্যাকেজ, ১০ বছর চিকিৎসা প্রয়োজন এমনদের জন্য ৯ লাখ এবং পাঁচ বছর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এক লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
নিহতদের পরিবারকে প্রদত্ত ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের অর্ধেক নগদ এককালীন এবং বাকি অর্ধেক পাঁচ বছরের সঞ্চয়পত্র আকারে দেওয়া হবে। আহত শিশুদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের ৫০ শতাংশ দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে—প্রথম কিস্তির এক বছর পর দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়া হবে। বাকি ৫০ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে থাকবে, যা শিশুর বয়স ২৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে না। প্রাপ্তবয়স্ক আহতদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য, তবে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্র থেকে উত্তোলন পাঁচ বছরের আগে সম্ভব নয়।
Manual1 Ad Code
সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল এবং জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে এই ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের অর্থ প্রদান করা হবে। সরকার গঠিত তদন্ত কমিশন প্রস্তাব করেছে, ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে আহতদের ভবিষ্যৎ জীবনে সম্ভাব্য দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি, প্রতিকূলতা, আঘাতের মাত্রা এবং পুনর্বাসনের প্রয়োজন বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
Manual2 Ad Code
তবে বিধ্বস্ত বিমানের তরুণ পাইলটের পরিবারের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ সুপারিশ করা হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যপত্রে উল্লেখ রয়েছে, বিমানবাহিনী তাদের নিজস্ব বিধিমালা অনুযায়ী পাইলটের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে।
একজন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা জানান, ‘জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারকেও সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে বহু শিশু শিক্ষার্থী নিহত ও আহত হয়েছে। একইভাবে তাদের জন্যও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সরকার গঠিত তদন্ত কমিশন এসব সুপারিশ করেছে।’
Manual3 Ad Code
অন্তর্বর্তী সরকার আশা করছে, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ চূড়ান্ত হলে নিহত ও আহতদের পরিবার যথাযথ সহায়তা পাবেন।
গত ২১ জুলাই দুপুরে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই মডেলের যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে প্রায় ৩৫ জন নিহত এবং প্রায় ১৭২ জন আহত হন। নিহত ও আহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী, যাদের বড় অংশই অগ্নিদগ্ধ হয়েছে।