নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা, শিশু-নারীসহ নিহত ৩০
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা, শিশু-নারীসহ নিহত ৩০
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
ডিজিটাল ডেস্ক:
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ নাইজারে একটি জনাকীর্ণ বাজারে বন্দুকধারী সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ হামলায় কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (৪ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নাইজারের ডেমো গ্রামের কাসুয়ান দাকি মার্কেটে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে চেপে আসা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাজারে ঢুকে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৩০ জন এবং আহত হন আরও বহু মানুষ। স্থানীয়ভাবে ‘ডাকাত’ হিসেবে পরিচিত এই সন্ত্রাসীরা কেবল হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা বাজারের বিভিন্ন দোকানে ব্যাপক লুটপাট চালায় এবং বেশ কিছু দোকানে অগ্নিসংযোগ করে জনমনে ত্রাসের সৃষ্টি করে।
Manual7 Ad Code
নাইজার পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিও আবিওদুন এই হামলার ঘটনা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশ ইতিমধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।
Manual1 Ad Code
হামলায় আহত দাউদা সাকুল্লে নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা দিয়েছেন, হামলাকারীরা নারী ও শিশুদের ওপরও দয়া দেখায়নি। তিনি অভিযোগ করেন যে, হামলার সময় বাজারে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না, যার ফলে সন্ত্রাসীরা দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সুযোগ পায়। বর্তমানে স্থানীয়রা বাজারের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
Manual4 Ad Code
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃতদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বিশেষ করে বন-জঙ্গলের নিকটবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কঠোর সামরিক অভিযান চালানোর জন্য তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই হামলার মাত্র এক মাস আগে দেশটির মধ্যাঞ্চলের একটি ক্যাথলিক স্কুল থেকে ৩০০ জন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছিল, যাদের বড় একটি অংশ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান এই অপহরণ ও সন্ত্রাসী হামলা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।