নয়াদিল্লি আফগান দূতাবাসের দায়িত্বে তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা
নয়াদিল্লি আফগান দূতাবাসের দায়িত্বে তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
নিউজ ডেস্ক :
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত আফগান দূতাবাসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মুফতি নূর আহমেদ নূর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারত সরকার তালেবান প্রতিনিধির নিয়োগে সবুজ সংকেত দেওয়ায় তিনি ‘চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স’ হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব নিলেন।
Manual8 Ad Code
সোমবার (১২ জানুয়ারি) এই কূটনৈতিক রদবদল সম্পন্ন হয়। এর আগে এই পদে আফগানিস্তানের পুরনো জমানার প্রতিনিধি আসীন ছিলেন।
Manual3 Ad Code
মুফতি নূর আহমেদ নূর আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট পলিটিক্যাল ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সম্প্রতি আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সাত দিনের ভারত সফরেও তিনি সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
তালেবান সরকারকে ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দিলেও দিল্লির এই পদক্ষেপকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ভারতের মুম্বই ও হায়দ্রাবাদে অবস্থিত আফগান উপদূতাবাসগুলোতে তালেবান প্রতিনিধিরা কাজ শুরু করলেও নয়াদিল্লির মূল দূতাবাস নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েন চলছিল।
Manual8 Ad Code
গত কয়েক মাসে তালেবানের শীর্ষ নেতাদের ঘনঘন ভারত সফর এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগের পথ প্রশস্ত হয়। ভারত ইতিমধ্যে দীর্ঘ বিরতির পর কাবুলে নিজেদের দূতাবাস পুনরায় চালু করেছে এবং আফগানিস্তানের মানবিক সংকটে নিরবচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে।
Manual3 Ad Code
আঞ্চলিক রাজনীতির সমীকরণে এই কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন এবং ইরানে ভারতের নির্মিত চাবাহার বন্দর ব্যবহার নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। মুফতি নূরের মতো একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিককে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত করার মাধ্যমে তালেবান প্রশাসন ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি স্বীকৃতি না দিলেও এই বাস্তবসম্মত বা ‘প্রাগম্যাটিক’ কূটনৈতিক অবস্থান দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায় মধ্য এশীয় রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সফরের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যে বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, মুফতি নূরের নিয়োগ তা আরও সুসংহত করবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তালেবান প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দূতাবাসের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম গতিশীল হবে, যা দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও বাণিজ্যিক জটিলতা নিরসনে সহায়ক হবে।