স্টাফ রিপোর্টার:
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ এবং তার দেহরক্ষীদের নৃশংসভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কাপুরুষোচিত’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ।
Manual6 Ad Code
শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলায় এক আকস্মিক সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে নিউইয়র্কের একটি বন্দিশিবিরে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী।
Manual5 Ad Code
রোববার (৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাদ্রিনো জানান, এই অভিযানের সময় প্রেসিডেন্টের বেশ কয়েকজন দেহরক্ষীকে ‘ঠান্ডা মাথায়’ হত্যা করা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় ভেনেজুয়েলার কয়েকজন সেনা সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের পর ঘোষণা করেছেন যে, ওয়াশিংটন এখন থেকে ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির বিশাল তেলের ভাণ্ডার নিজেদের প্রয়োজনমতো ব্যবহার করবে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ স্থাপন করেছে।
Manual6 Ad Code
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক ডাকার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই অভিযানটি সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন কি না, তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
Manual5 Ad Code
প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার আদালতের নির্দেশনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি মাদুরোকেই ভেনেজুয়েলার ‘একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাদ্রিনো অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সশস্ত্র বাহিনীকে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে নিউইয়র্কের বন্দিশিবিরে মাদুরোকে ‘মাদক পাচার’ সংক্রান্ত অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।