বিয়ানীবাজারে নানামুখী উদ্যোগের পরও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না সর্বজনীন পেনশনে। শুরুতে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও বর্তমানে এর চিত্র ভিন্ন। দিনকে দিন কমছে এর নিবন্ধনকারীর সংখ্যা। ফলে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকটাই চিন্তিত সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধনকারী এই উপজেলার গ্রাহকরা। বলা হচ্ছে, অর্থ বিনিয়োগ করে তা ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা আছে।
Manual3 Ad Code
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, শেখ হাসিনার সরকারের করা এ স্কিম চালু রাখবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগে এ বিষয়ে আগ্রহী করতে প্রচারণা চালানো হলেও ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সেভাবে প্রচারেও যেতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। প্রথমদিকে বিয়ানীবাজারের পৌরসভাসহ উপজেলার দশটি ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারে একসাথে সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিবন্ধন কার্যক্রমের বুথ চালু করা হয়। এখন তার অনেকটাই গুঁটিয়ে নেয়া হয়েছে।
Manual7 Ad Code
সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি রাখতে গিয়ে অনেকটাই তাড়াহুড়া করে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট চারটি স্কিম নিয়ে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করে সরকার। সরকারের দিক থেকে বিষয়টি ফলাও করে প্রচারের চেষ্টা করা হলেও এখনও অবহিত নন দেশের বিপুল সংখ্যাক মানুষ। এরপরও গত মে মাস পর্যন্ত বিয়ানীবাজারে ৫ শ’ ৬৩ জন পেনশনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পূর্ব পর্যন্ত এ সংখ্যা সাড়ে ৫ হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় সংশ্লিষ্টরা। তাদের মধ্যে অনেকে নিবন্ধন করার পর দু-এক মাস কিস্তি পরিশোধ করার পর আর কিস্তি দিচ্ছেন না।
Manual1 Ad Code
এদিকে সরকার পতনের পর বিয়ানীবাজারে এ কার্যক্রম স্থিমিত হয়ে গেছে। বিগত সময়ে সর্বজনীন পেনশন নিয়ে বেশ ঢাকডোল থাকলেও এখন আর তা নেই। সরকার পতনের নতুন করে কেউ নিবন্ধন করেনি বললেই চলে। মূলত প্রবাসী ও বেসরকারি খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করতে সর্বজনীন পেনশন-ব্যবস্থা চালু করা হলেও স্কিমগুলো তাদের আকৃষ্ট করতে পারছে না।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শামীম জানিয়েছেন, কিছুটা স্থবির হয়ে পড়লেও বন্ধ হচ্ছে না সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি। এ কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের নেই। যতটুকু জানি, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা যথারীতি চলবে। এর সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে।