স্পোর্টস ডেস্ক:
চলতি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হয়ে ১-০ গোলের এক ঘামঝরানো জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। আর এই জয়ের একমাত্র গোলটি করে চলতি টুর্নামেন্টে লিওনেল মেসির সমান ৭টি গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
Manual5 Ad Code
এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির সমান সর্বোচ্চ ৭ গোলে পৌঁছলেন তিনি।
খেলার ৭০ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর দিয়েগো গোমেজ ফাউল করলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি-এর সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন অনফিল্ড রেফারি। ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে ডেডলক ভাঙেন ফরাসি অধিনায়ক। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৯তম ম্যাচে ১৯তম গোল।
ম্যাচে ফরাসিদের ওপর প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা শারীরিকভাবে বেশ চড়াও হয়ে খেললেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।
Manual7 Ad Code
ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম ম্যাচ শেষে অধিনায়কের প্রশংসা করে বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই ওর মধ্যে জয়ের ক্ষুধা ছিল। ও মাঠে যেমন সেরা খেলোয়াড়, তেমনি মাঠের বাইরে যখন কথা বলে, পুরো দলের প্রতিনিধি হয়েই বলে।’
উল্লেখ্য, ম্যাচজুড়ে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে মৃদু ধাক্কাধাক্কি ও উত্তাপ লক্ষ্য করা গেছে। প্রথমার্ধে আন্দ্রেস কুবাস এমবাপ্পেকে ফাউল করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ম্যাচ শেষেও সেই রেশ রয়ে যায়। খেলা শেষে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল হ্যান্ডশেকের জন্য এগিয়ে এলে এমবাপ্পে তা এড়িয়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গোলরক্ষক গিল এমবাপ্পের পিঠ লক্ষ্য করে বল ছুড়ে মারেন।
Manual1 Ad Code
এসব কিছু নিয়ে যে ফরাসিরা মোটেই খুশি নন সেটা খেলা শেষে এমবাপ্পের কথাতেও ফুটে ওঠে। ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে নিজেদের ‘কঠিন ও কুৎসিত ফুটবল’ খেলার মানসিকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কেমন হবে। আমরা প্রয়োজনে হাত নোংরা করতেও প্রস্তুত ছিলাম। ওরা হয়তো ভেবেছিল আমরা স্যুট-টাই (টাক্সিডো) পরে খেলতে নামব, কিন্তু আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি ছিলাম।’
চলতি বিশ্বকাপে গোলদাতার তালিকায় এই মুহূর্তে শীর্ষে অবস্থান করছেন এমবাপ্পে। ৫ ম্যাচ খেলে তার গোলসংখ্যা বর্তমানে ৭টি। সমান ৭টি গোল আছে লিওনেল মেসির নামের পাশেও। কিন্তু গোল সহায়তায় আর্জেন্টিনা অধিনায়কের থেকে এগিয়ে থাকায় গোল্ডেন বুটের দৌঁড়ে এগিয়ে ফরাসি অধিনায়ক। তবে এমবাপ্পের থেকে এক ম্যাচ কম খেলেছেন মেসি।
Manual4 Ad Code
৫ গোল করে এর পরেই আছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। উসমান দেম্বেলে, মিকেল ওইয়ারজাবাল, ইসমাইলা সার এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ৪টি করে গোল করেছেন।
অন্যদিকে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য টুর্নামেন্টটি এখনো আশানুরূপ কাটেনি। তিনি ৪ ম্যাচে গোল করেছেন ৩টি।